শালিকা যখন বউ (পর্ব-০৫)

| By admin | Filed in: পরোকিয়া.

শালিকা যখন বউ (পর্ব-০৪)

 

-আমি:সত্যি তো?

-রিশা:হুমম সত্যি প্লিজ এবার তো সাপ গুলো সড়ান(আমার বুকে মাথা লুকিয়ে)

-আমি:ওকে তুমি উঠে বাহিরে যাও আমি দেখছি।

-রিশা:না আমি আপনাকে ছাড়তে পারবো না। আমার অনেক ভয় লাগছে তো।

  • আমি:আরে না সরলে আমি সাপ গুলো মারবো কি ভাবে?? তুমি চোখ বুঝে বাহিরে যাও আমি দেখছি।

এরপর রিশা ভয় ভয় করে চোখ বুঝে বাহিরে গেল। আর আমি উঠে সাপ দুটিকে লুকিয়ে রাখলাম।

-আমি:এই রিশা এখন ভিতরে আসো।

-রিশা:সাপ গুলো নেই তো??(বাহির থেকে)

-আমি:আরে না নেই আসো।

রিশা রুমে এসে ভালো করে বিছানাটা দেখার পর

-রিশা:কি দিয়ে মারলেন সাপ গুলোকে??

-আমি:কি দিয়ে আবার হাত দিয়ে।

  • রিশা:হাত দিয়ে(অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
  • আমি:হুমম

-রিশা:কই সাপ গুলো কই??

  • আমি:ঐ তো খাটের নিছে(কথা বলেই জিব্বায় কামড়ে দিলাম)
  • রিশা:কিইই??
  • আমি:নান…না মানে সাপ গুলো তো ঝানেলা দিয়ে ফেলে দিয়েছে আর নেই।

-রিশা:সত্যি?

-আমি:হুমম সত্যি।

-রিশা:অনেক ধন্যবাদ আপনাকে(হাশি মুখে)

-আমি:হুমম এবার তুমি রেডি??

-রিশা:রেডি মানে??

-আমি:ওমা ভুলে গেলে??(অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

-রিশা:কি দুলাভাই?

-আমি:এই আবার দুলাভাই মানে?(একটু রেগে)

-রিশা:দুইলাভাই বলবো না তো কি বলবো??

-আমি:কেন তখন যে বললে আমি তোমার সোনা স্বামী। আর দুইলাভাই বলবে না।

-রিশা:আরে তখন সেটা ভয়ে বলেছি।

  • আমি:ওকে ঠিক আছে। এবার তাহলে আমাকে কিস দাও।

-রিশা:পারবো না।

-আমি:কেন??

-রিশা:এটাও তো আমি ভয়ে বলেছি।

-আমি:উফফফ ওকে তাহলে চল একসাথে সুবো।

-রিশা:পাগল নাকি এটা তো কখনই সম্ভব না।

-আমি:মানে কি তাহলে তুমি একটাও শর্ত মেনে নিবে না??

-রিশা:শর্ত আবার কই একটা বাচ্চাঁ মেয়ে ভয় পেয়ে বাঁচার জন্য আপনার কথায় হ্যাঁ বলেছে আর আপনি সেটা শর্ত মনে করে নিলেন(বাচ্চাঁদের মতো করে)

-আমি:হায় আল্লাহ্ একবড় একটা পিস নাকি এখনো বাচ্চাঁ(একটু রাগ দেখিয়ে)

-রিশা:এই দেখুন আমার সাথে এমন করে কথা বললে কিন্তু আমি কান্না করবো দুলাভাই (কাদার মতো করে)

আল্লাগো এটা কোন মেয়ে বিপদে পড়লে স্বামী আর বিপদকেটে গেলে দুলাভাই।

এভাবে কিছু দিন যাওয়ার পর রিশাদের বাসায় আসি মানে আমার শ্বশুড় বাড়িতে। নতুন শ্বশুড় বাড়ি তো তাই শাশুড়ি মা ভালো ভালো রান্না করেছে। পোলাও, মাংস, রুই মাছ, কোপ্তা, কালিয়া, দই, বেগুন ভাজি এবং পাটশাক। এরজন্যই মানুষ বলে শ্বশুড় বাড়ি মধুর হাড়ি। আমি তো মনে মনে খুব খুশি। খেতে বসে কোনটা দিয়ে আগে শুরু করবো বুঝতে পারছি না। শ্বাশুড়িমা এইসব আমায় তুলে দিচ্ছিল এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো শ্বাশুড়িমার রুমে।

-শ্বাশুড়িমা:রিশামা দেখ তো কে ফোন করলো?

-রিশা:আমি পারবো না। আমি দুইলাভাই কে খাবার দিচ্ছি তুমি যাও।

  • শ্বাশুড়ি মা:কিরে তুই কাকে দুইলাভাই বলছিস?(অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

-আমি:কাকে আবার আমাকে।

-শ্বাশুড়ি মা:কিইই?

-আমি:হুমম আরো কতকিছু।

  • শ্বাশুড়ি মা:কিরে রিশা কি শুনছি এইসব??

-রিশা:যা শুনছো ঠিকি শুনছো।

-আমি:আ…

-শ্বাশুড়ি মা:তুই কি সব বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না(অবাক হয়ে)

-রিশা:সে সব পড়ে বলবো আগে যাও গিয়ে দেখ কে ফোন করছে।

এরপর রিশার মা রুমে গেল।

-রিশা:এই দুইলাভাই এই আরো কতকিছু মানে? আমি কি করেছি আপনাকে(রাগি কন্ঠে)

ধুর সামনে এত ভালো ভালো খাবার রেখে ঝগড়া করা যাবে না।

-আমি:না কিছু না তুমি তো মিষ্টি সোনা শালী আমার তুমি আবার আমাকে কি করবে?

-রিশা:হুমম গুড।

  • আমি:হুমম এবার দাও খাবার দাও(রাগ দেখিয়ে)

এরপর রিশা আমাকে খাবার দিচ্ছিল প্রথমে পোলাও তুলে দিল। তার মাংস আর রুই মাছ দিল। তারপর প্লেটে একগাদা পাটশাক তুলে দিল। এই পাটশাক আমার একদম পছন্দ না। কি করবো বুঝতে পারছি না। আগে এই পাটশাকটা শেষ করি তারপর মাংস দিয়ে শুরু করবো। তারপর তাড়াতাড়ি পাটশাক শেষ করলাম। রিশা এটা দেখে বলল

-রিশা:আরে দুইলাভাই আপনার বুঝি পাটশাকটা খুব ভালো লেগেছে? আরেকটু ঢেলে দেই ’’”রিশা বলতে বলতে আরেক গাদা পাটশাক আমার প্লেটে তুলে দিল””। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। যাক অল্প একটু তো এটাও আগে শেষ করি তারপর মাংস দিয়ে শুরু করবো। খুব তারাতারি এটাও শেষ করলাম। যাক এবার মাংস দিয়ে শুরু করি। এই বলে মাংস হাতে নিতে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনি

-রিশা:আরে দুইলাভাই আপনি দেখছি ছাগলের মতো পাটশাক খাচ্ছেন? পাটশাকট আপনার এত প্রিয় দাড়ান আর আরো একটু দেই। এই বলে রিশা আমার প্লেটে আরো এক গাদা পাটশাক দিল। মেজাজটা গরম হয়ে গেল। মনটা চাইছে থাপ্পড়াই দাঁত গুলো ফালাই দেই মাইয়ার। কিন্তু নতুন শ্বশুড় বাড়ি তাই কিছু না বলে বাটিতে আরো পাটশাক ছিল সেটা ঠেলে নিলাম আমার প্লেটে। রিশা শুধু হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি খুব তারাতারি পাটশাকটা আবার শেষ করে মাংসটা হাতি নিয়ে মুখে দিতে যাব ঠিক তখনি

-রিশা:আরে দু্লাভাই আরো শেষ করলেন।আপনি তো দেখি ছাগল না গরুর মতো পাটশাক খান। দাড়ান আমি আরো পাটশাক নিয়ে আসছি আপনার জন্য। বুঝেছি আমার আর মাংস খাওয়া হবে না খাওয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পোছন্ড রেগে

-আমি:হারামজাদী তোকে আর কষ্ট করে আমার জন্য পাটশাক আনতে হবে না। তার চেয়ে পাটক্ষেতটা দেখাইয়া দে আমি গিয়া খাইয়া আসি।

চলবে……

নতুন ভিডিও গল্প!


Tags: , , , , ,

Comments